ভাষা বেছে নিন

জ্যাকসন-পোলক স্কিনফোল্ড ফ্যাট ক্যালকুলেটর

৩-সাইট জ্যাকসন-পোলক ফর্মুলা ব্যবহার করে স্কিনফোল্ড ক্যালিপারের সাহায্যে আপনার শরীরের চর্বির হার, ফ্যাট মাস এবং লিন মাস নিখুঁতভাবে পরিমাপ করুন।

Mehmet Demiray (মেহমেত দেমিরায়) প্রকাশিত আপডেট হয়েছে
শেয়ার করুন
অল-ইন-ওয়ান বডি ফ্যাট ক্যালকুলেটরএকটি মাত্র টুলে নেভি, আরএফএম এবং স্কিনফোল্ড পদ্ধতি ব্যবহার করে আপনার বডি ফ্যাটের সবচেয়ে সঠিক হিসাবটি জেনে নিন।

স্কিনফোল্ড টেস্টিং কীভাবে কাজ করে

আমাদের শরীরের মোট চর্বির একটি বড় অংশ ত্বকের ঠিক নিচেই জমা থাকে, যাকে সাবকিউটেনিয়াস ফ্যাট বলা হয়। স্কিনফোল্ড ক্যালিপার নামক একটি যন্ত্রের সাহায্যে এই চর্বির পুরুত্ব মাপা হয়। ক্যালিপারের রিডিং সাধারণত ১ মিমি স্কেলে নেওয়া হয়। স্কিনফোল্ড বডি ফ্যাট টুলের মাধ্যমে এই পরিমাপগুলো ব্যবহার করে শরীরের মোট চর্বির পরিমাণ বা বডি ফ্যাট পার্সেন্টেজ বের করা সম্ভব। জিম বা ফিটনেস সেন্টারে এটি একটি বহুল ব্যবহৃত পদ্ধতি। চর্বির স্তর মেপে সামগ্রিক বডি ফ্যাট সম্পর্কে একটি পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায়।

নারী ও পুরুষ ভেদে পরিমাপের স্থান

জ্যাকসন-পোলক থ্রি-সাইট পদ্ধতিতে নারী ও পুরুষদের জন্য পরিমাপের স্থানগুলো ভিন্ন। পুরুষদের জন্য তিনটি স্থান হলো বুক, পেট এবং উরু। বুকের মাপটি বগল ও স্তনবৃন্তের মাঝামাঝি জায়গা থেকে নিতে হয়। পেটের মাপ নাভি থেকে সামান্য ডান দিকে এবং উরুর মাপ হাঁটু ও নিতম্বের ঠিক মাঝখান থেকে নিতে হয়। নারীদের জন্য তিনটি স্থান হলো ট্রাইসেপস, সুপ্রাইলিয়াক এবং উরু। ট্রাইসেপস হলো হাতের পেছনের অংশে কাঁধ ও কনুইয়ের ঠিক মাঝখানে। সুপ্রাইলিয়াক হলো কোমরের হাড়ের ঠিক ওপরে। সঠিক ফলাফলের জন্য সব সময় শরীরের ডান পাশ থেকে পরিমাপ নেওয়া জরুরি।

মিলিমিটার থেকে পার্সেন্টেজ: পেছনের গণিত

ক্যালিপারের মাধ্যমে পাওয়া মিলিমিটারের মাপগুলোকে সরাসরি শতাংশে রূপান্তর করা যায় না। স্কিনফোল্ড বডি ফ্যাট টুলটি প্রথমে জ্যাকসন-পোলক সমীকরণ ব্যবহার করে শরীরের ঘনত্ব বা বডি ডেনসিটি নির্ণয় করে। এই সমীকরণে তিনটি স্থান থেকে পাওয়া চর্বির পুরুত্বের যোগফল SS এবং ব্যক্তির বয়স ব্যবহার করা হয়। ঘনত্ব বের করার পর বিখ্যাত সিরি সমীকরণের সাহায্যে বডি ফ্যাট পার্সেন্টেজ নির্ণয় করা হয়। সিরি সমীকরণটি হলো:

%BF=495Density450\%BF = \frac{495}{\text{Density}} - 450

টুলটি এই জটিল হিসাব মুহূর্তের মধ্যে সম্পন্ন করে এবং আপনার ওজন জানা থাকলে শরীরের ফ্যাট মাস ও লিন মাস এর সঠিক পরিমাণ জানিয়ে দেয়।

সঠিক ও নির্ভরযোগ্য ফলাফল পাওয়ার উপায়

স্কিনফোল্ড ক্যালিপার দিয়ে সঠিক মাপ পাওয়া অনেকটাই যিনি মাপছেন তার দক্ষতার ওপর নির্ভর করে। নির্ভরযোগ্য ফলাফল পেতে একই স্থান থেকে অন্তত দুই থেকে তিনবার মাপ নিয়ে তার গড় বের করা উচিত। পেশি নয়, কেবল ত্বক এবং তার নিচের চর্বি চিমটি দিয়ে ধরতে হবে। যদি ক্যালিপার ব্যবহার করা কঠিন মনে হয় তবে ফিতা দিয়ে মাপার পদ্ধতি যেমন ইউএস নেভি বডি ফ্যাট পদ্ধতি বা বিএমআই বডি ফ্যাট পদ্ধতি ব্যবহার করে দেখতে পারেন। তবে সঠিকভাবে মাপতে পারলে স্কিনফোল্ড বডি ফ্যাট টুলটি অত্যন্ত নির্ভুল ফলাফল প্রদান করে।

সাধারণ জিজ্ঞাসা: নারী ও পুরুষের মাপের স্থান আলাদা কেন?

হরমোনের পার্থক্যের কারণে নারী ও পুরুষদের শরীরে চর্বি জমার জায়গাগুলো প্রাকৃতিকভাবে আলাদা হয়। পুরুষদের ক্ষেত্রে সাধারণত বুক ও পেটের অংশে বেশি চর্বি জমা হয়। অন্যদিকে নারীদের ক্ষেত্রে প্রাকৃতিকভাবে ট্রাইসেপস, কোমর এবং উরুর অংশে চর্বি বেশি থাকে। জ্যাকসন-পোলক পদ্ধতি এই প্রাকৃতিক ভিন্নতাকে বিবেচনায় রেখেই তৈরি করা হয়েছে যাতে স্কিনফোল্ড বডি ফ্যাট টুলটি সবার জন্যই সবচেয়ে নির্ভুল ফলাফল দিতে পারে।

সাধারণ জিজ্ঞাসা: কত দিন পরপর বডি ফ্যাট মাপা উচিত?

শরীরের চর্বির পরিবর্তনের হার বেশ ধীর। সাধারণত প্রতি ৪ থেকে ৮ সপ্তাহ পরপর স্কিনফোল্ড বডি ফ্যাট টুলের সাহায্যে অগ্রগতি যাচাই করা একটি ভালো অভ্যাস। তবে মনে রাখা প্রয়োজন, যারা অত্যন্ত স্থূল বা যাদের বডি ফ্যাট ৩৫% এর বেশি তাদের ক্ষেত্রে ক্যালিপার দিয়ে চর্বি ধরা কঠিন হতে পারে এবং ফলাফল কিছুটা ভুল আসতে পারে। এসব ক্ষেত্রে আরএফএম বডি ফ্যাট টুল একটি ভালো বিকল্প হতে পারে।

যেগুলোর উত্তর আমরা সবচেয়ে বেশি দিই।

নারী ও পুরুষদের ক্ষেত্রে শরীরের ভিন্ন ভিন্ন অংশের মাপ নেওয়া হয় কেন?

নারী ও পুরুষদের শরীরে প্রাকৃতিকভাবে চর্বি জমার স্থান আলাদা হয়। পুরুষদের ক্ষেত্রে সাধারণত বুক, পেট ও উরুতে বেশি চর্বি জমে। অন্যদিকে, নারীদের ট্রাইসেপস (হাতের পেছনের অংশ), কোমরের দুই পাশ এবং উরুতে বেশি মেদ সঞ্চিত হয়। সঠিক ফলাফল পেতে স্কিনফোল্ড বডি ফ্যাট টুলটি এই লিঙ্গভিত্তিক শারীরিক পার্থক্যের ওপর ভিত্তি করে কাজ করে।

স্কিনফোল্ড ক্যালিপার সঠিকভাবে ব্যবহার করার নিয়ম কী?

সঠিক মাপ পেতে সবসময় শরীরের ডান দিকের অংশ পরিমাপ করুন। বুড়ো আঙুল ও তর্জনী দিয়ে ত্বক ও নিচের চর্বি আলতো করে টেনে ধরুন। খেয়াল রাখবেন যেন পেশি টানা না পড়ে। এরপর ক্যালিপারটি ত্বকের ভাঁজের ঠিক নিচে বসিয়ে রিডিং নিন। প্রতিটি স্থানে অন্তত দুবার মাপ নিয়ে তার গড় মান ব্যবহার করলে সবচেয়ে নিখুঁত ফলাফল পাওয়া যায়।

আমার বডি ফ্যাট কত দিন পরপর মাপা উচিত?

ফিটনেস বা ডায়েট রুটিনে থাকলে প্রতি চার থেকে আট সপ্তাহ পরপর বডি ফ্যাট মাপা ভালো। প্রতিদিন বা প্রতি সপ্তাহে মাপলে খুব একটা পার্থক্য বোঝা যায় না, কারণ শরীরে চর্বির পরিবর্তন ধীরগতিতে হয়। একই ক্যালিপার এবং একই ব্যক্তির সাহায্যে মাপ নিলে ফলাফলের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে।

অতিরিক্ত মোটা বা খুব শুকনা মানুষদের ক্ষেত্রে কি এই পদ্ধতি সঠিক ফলাফল দেয়?

জ্যাকসন-পোলক পদ্ধতি সাধারণ ফিটনেস লেভেলের মানুষের জন্য সবচেয়ে ভালো কাজ করে। তবে যারা অতিরিক্ত স্থূল, তাদের ক্ষেত্রে ক্যালিপার দিয়ে ত্বকের ভাঁজ ধরা কঠিন হতে পারে, ফলে ফলাফলে কিছুটা ত্রুটি দেখা দিতে পারে। এমন ক্ষেত্রে ফিতা দিয়ে মাপার ইউএস নেভি বডি ফ্যাট পদ্ধতি ব্যবহার করা বেশি সুবিধাজনক হতে পারে।

বিএমআই বডি ফ্যাট ক্যালকুলেটরের চেয়ে স্কিনফোল্ড বডি ফ্যাট পদ্ধতি কি বেশি কার্যকর?

হ্যাঁ, বডি বিল্ডার বা অ্যাথলিটদের জন্য স্কিনফোল্ড পদ্ধতি অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য। বিএমআই শুধুমাত্র উচ্চতা ও ওজনের ওপর ভিত্তি করে কাজ করে, তাই পেশিবহুল মানুষদের ক্ষেত্রে এটি ভুলবশত বেশি চর্বি দেখাতে পারে। স্কিনফোল্ড পদ্ধতি সরাসরি ত্বকের নিচের চর্বি মাপে, যা শরীরের প্রকৃত অবস্থা বুঝতে সাহায্য করে। তবে সাধারণ মানুষের জন্য বিএমআই বডি ফ্যাট একটি সহজ বিকল্প হতে পারে।

ডান দিকের বদলে বাঁ দিকের মাপ নিলে কি ফলাফলে ভুল আসবে?

বৈজ্ঞানিক স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী স্কিনফোল্ড পরিমাপ সবসময় শরীরের ডান দিকে করা উচিত। মানুষের শরীরের দুই পাশে পেশি ও চর্বির বিন্যাসে সামান্য পার্থক্য থাকতে পারে। তাই সমীকরণের সঠিক প্রয়োগ এবং আগের মাপের সাথে নিখুঁতভাবে তুলনা করার জন্য সবসময় ডান দিকই বেছে নেওয়ার নিয়ম রয়েছে।