ভাষা বেছে নিন

আরএফএম বডি ফ্যাট ক্যালকুলেটর: উচ্চতা ও কোমর দিয়ে চর্বি মাপুন

শুধুমাত্র উচ্চতা ও কোমরের মাপ দিয়ে আপনার শরীরের চর্বির শতকরা হার (RFM) জানুন। সাথে লিন মাস ও ফ্যাট মাসের পরিমাণ দেখুন এবং রেজাল্ট সেভ করুন।

Mehmet Demiray (মেহমেত দেমিরায়) প্রকাশিত আপডেট হয়েছে
শেয়ার করুন
অল-ইন-ওয়ান বডি ফ্যাট ক্যালকুলেটরএকটি মাত্র টুলে নেভি, আরএফএম এবং স্কিনফোল্ড পদ্ধতি ব্যবহার করে আপনার বডি ফ্যাটের সবচেয়ে সঠিক হিসাবটি জেনে নিন।

রিলেটিভ ফ্যাট মাস (RFM) কী?

রিলেটিভ ফ্যাট মাস বা আরএফএম হলো শরীরের চর্বি মাপার একটি আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি। ২০১৮ সালে গবেষক উলকট এবং বার্গম্যান সায়েন্টিফিক রিপোর্টস জার্নালে এই পদ্ধতিটি প্রকাশ করেন। দীর্ঘ গবেষণার পর তারা প্রমাণ করেন যে মানুষের শরীরের চর্বি পরিমাপ করার জন্য জটিল কোনো যন্ত্রপাতির প্রয়োজন নেই। এর প্রধান সুবিধা হলো শরীরের চর্বি মাপার জন্য কোনো ওজন মাপার যন্ত্র বা স্কেলের প্রয়োজন হয় না। শুধুমাত্র উচ্চতা এবং কোমরের মাপ ব্যবহার করে আরএফএম বডি ফ্যাট ক্যালকুলেটর শরীরের চর্বির পরিমাণ নিখুঁতভাবে নির্ণয় করতে পারে। এটি ডেক্সা (DEXA) স্ক্যানের মতো অত্যাধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতির সাথে মিলিয়ে পরীক্ষা করা হয়েছে এবং অত্যন্ত নির্ভুল ফলাফল পাওয়া গেছে। স্বাস্থ্য সচেতন মানুষ থেকে শুরু করে ফিটনেস নিয়ে যারা কাজ শুরু করেছেন তাদের জন্য এটি একটি সহজ ও কার্যকরী সমাধান। প্রথাগত পদ্ধতির সীমাবদ্ধতাগুলো কাটিয়ে ওঠার জন্যই মূলত এই নতুন পদ্ধতিটি উদ্ভাবন করা হয়েছে।

আরএফএম বডি ফ্যাট ক্যালকুলেটর কীভাবে কাজ করে?

এই ক্যালকুলেটরের মূল ভিত্তি হলো উচ্চতা এবং কোমরের মাপের অনুপাত। চিকিৎসাবিজ্ঞানে দেখা গেছে যে পেটের চারপাশে জমে থাকা চর্বি বা ভিসারাল ফ্যাট হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসের মতো মারাত্মক রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। এই চর্বি স্বাস্থ্যের জন্য কতটা ঝুঁকিপূর্ণ তা উচ্চতা ও কোমরের অনুপাত থেকে সহজেই বোঝা যায়। আরএফএম বডি ফ্যাট ক্যালকুলেটর নারী এবং পুরুষ উভয়ের শারীরিক গঠনের ভিন্নতার কথা মাথায় রেখে আলাদা সূত্র ব্যবহার করে। পুরুষদের জন্য সূত্রটি হলো:

%BF=6420heightwaist\%BF = 64 - 20 \cdot \frac{height}{waist}

মহিলাদের জন্য সূত্রটি হলো:

%BF=7620heightwaist\%BF = 76 - 20 \cdot \frac{height}{waist}

এখানে উচ্চতা এবং কোমরের মাপ সবসময় একই এককে নিতে হয়। আপনি ইঞ্চি বা সেন্টিমিটার যেটিই ব্যবহার করুন না কেন ফলাফল একই আসবে। আপনি চাইলে ঐচ্ছিক তথ্য হিসেবে শরীরের বর্তমান ওজন প্রদান করতে পারেন। ওজন দেওয়া থাকলে ক্যালকুলেটরটি মোট চর্বির ভর এবং চর্বিহীন পেশির ভরও আলাদাভাবে হিসাব করে দিতে পারে। এর ফলে শরীরের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে আরও বিস্তারিত ধারণা পাওয়া সম্ভব হয়।

বডি মাস ইনডেক্স (BMI) বনাম রিলেটিভ ফ্যাট মাস (RFM)

দীর্ঘদিন ধরে মানুষের স্বাস্থ্য মূল্যায়নে এবং স্থূলতা নির্ণয়ে বিএমআই ক্যালকুলেটর ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বিএমআই মূলত একজন ব্যক্তির উচ্চতা এবং ওজনের ওপর ভিত্তি করে কাজ করে। কিন্তু এর একটি বড় সীমাবদ্ধতা হলো এটি শরীরের পেশি এবং চর্বির মধ্যে কোনো পার্থক্য করতে পারে না। উদাহরণস্বরূপ একজন নিয়মিত ব্যায়াম করা পেশিবহুল মানুষের বিএমআই অনেক বেশি হতে পারে যা গাণিতিকভাবে তাকে স্থূল হিসেবে চিহ্নিত করবে। এই বিশাল সমস্যার সমাধানে রিলেটিভ ফ্যাট মাস পদ্ধতি অনেক বেশি কার্যকর ভূমিকা পালন করে। এটি ওজনের ওপর একেবারেই নির্ভর না করে শুধুমাত্র কোমরের মাপ ব্যবহার করে যা পেটের মেদ সম্পর্কে একদম সঠিক ধারণা দেয়। প্রথাগত ও পুরনো পদ্ধতির পরিবর্তে আরএফএম বডি ফ্যাট ক্যালকুলেটর ব্যবহার করলে শরীরের প্রকৃত গঠন সম্পর্কে আরও নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়। আপনি চাইলে তুলনামূলক বিশ্লেষণের জন্য বিএমআই বডি ফ্যাট পদ্ধতি ব্যবহার করেও দেখতে পারেন তবে আরএফএম সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য অনেক বেশি উপযোগী ও বাস্তবসম্মত।

মাপ নেওয়ার সঠিক নিয়ম এবং ফলাফল বিশ্লেষণ

সঠিক ও নির্ভুল ফলাফল পেতে মাপ নেওয়ার পদ্ধতি সম্পূর্ণ সঠিক হওয়া অত্যন্ত জরুরি। উচ্চতা মাপার সময় জুতো খুলে সোজা হয়ে একটি সমতল দেয়ালের সাথে পিঠ ঠেকিয়ে দাঁড়াতে হবে। কোমরের মাপ নেওয়ার জন্য একটি সাধারণ নমনীয় ফিতা বা মেজারিং টেপ ব্যবহার করুন। নাভির ঠিক ওপর দিয়ে যেখানে পেট সবচেয়ে চওড়া থাকে সেখানে ফিতাটি পেঁচিয়ে মাপ নিতে হবে। মাপ নেওয়ার সময় পেট স্বাভাবিক অবস্থায় রাখবেন এবং শ্বাস আটকে রাখবেন না। উদাহরণস্বরূপ আপনার উচ্চতা যদি ১৭০ সেমি হয় তবে কোমরের মাপও সেন্টিমিটারে নিতে হবে। মাপ নেওয়ার পর আরএফএম বডি ফ্যাট ক্যালকুলেটর আপনাকে একটি নির্দিষ্ট শতাংশ দেখাবে। আমেরিকান কাউন্সিল অন এক্সারসাইজ (ACE) অনুযায়ী ফিটনেস লেভেলের ওপর ভিত্তি করে চর্বির পরিমাণকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়। পুরুষদের ক্ষেত্রে ১৪% থেকে ১৭% এবং মহিলাদের ক্ষেত্রে ২১% থেকে ২৪% চর্বি থাকলে তাকে ফিটনেস ক্যাটাগরিতে ধরা হয়। এই মানদণ্ড ব্যবহার করে আপনি বুঝতে পারবেন আপনার বর্তমান ফিটনেস কোন পর্যায়ে আছে।

আরএফএম কি বিএমআই থেকে বেশি নির্ভুল?

চিকিৎসা বিজ্ঞানের বিভিন্ন আধুনিক গবেষণায় স্পষ্টভাবে দেখা গেছে যে শরীরের চর্বি নির্ণয়ের ক্ষেত্রে আরএফএম পদ্ধতি প্রচলিত বিএমআইয়ের তুলনায় অনেক বেশি নির্ভুল। আমেরিকার ন্যাশনাল হেলথ অ্যান্ড নিউট্রিশন এক্সামিনেশন সার্ভে (NHANES) এর বিপুল পরিমাণ স্বাস্থ্য বিষয়ক তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকরা দেখেছেন যে ডেক্সা স্ক্যানের ফলাফলের সাথে আরএফএম এর ফলাফলের দারুণ মিল রয়েছে। বিএমআই শুধুমাত্র আপনার শরীরের মোট আকার ও ওজন সম্পর্কে একটি সাধারণ ধারণা দেয় কিন্তু আরএফএম সরাসরি আপনার শরীরে জমে থাকা চর্বির পরিমাণ নির্দেশ করে। আপনি যদি স্বাস্থ্যকর উপায়ে ওজন কমানোর বা মেদ ঝরানোর দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করেন তবে আরএফএম বডি ফ্যাট ক্যালকুলেটর আপনাকে আপনার অগ্রগতি সম্পর্কে একদম সঠিক চিত্র প্রদান করবে। অন্যান্য বিকল্প পদ্ধতি হিসেবে ইউএস নেভি বডি ফ্যাট পদ্ধতি বা স্কিনফোল্ড ক্যালকুলেটর ব্যবহার করা যেতে পারে তবে আরএফএম এর মতো এত সহজে কোনো রকম ঝামেলা ছাড়া এগুলো করা যায় না।

আরএফএম শতাংশের অর্থ কী এবং কাদের জন্য এটি কার্যকর?

আরএফএম শতাংশ মূলত আপনার শরীরের মোট ওজনের ঠিক কতটুকু অংশ চর্বি দিয়ে গঠিত তা নির্দেশ করে। সহজ কথায় যদি আপনার আরএফএম ২০% হয় তার মানে আপনার শরীরের মোট ভরের ঠিক পাঁচ ভাগের এক ভাগ হলো চর্বি। এই ক্যালকুলেটরটি প্রাপ্তবয়স্ক সাধারণ মানুষের জন্য সবচেয়ে ভালো কাজ করে এবং নিখুঁত ফলাফল দেয়। তবে পেশাদার অ্যাথলেট বা বয়স্ক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এর ফলাফলে কিছুটা তারতম্য হতে পারে। বয়স্কদের ক্ষেত্রে বয়সের সাথে সাথে প্রাকৃতিকভাবেই পেশির ভর কমে যায় এবং চর্বির পরিমাণ বাড়ে। আবার অন্যদিকে অ্যাথলেটদের কোমরের মাপ অনেক কম থাকলেও শরীরের অন্যান্য অংশে প্রয়োজনীয় চর্বি থাকতে পারে। সাধারণ স্বাস্থ্য সচেতন ব্যক্তিরা যারা জিমে যাওয়া শুরু করেছেন বা ঘরে বসে স্বাস্থ্যকর ডায়েট করছেন তাদের জন্য আরএফএম বডি ফ্যাট ক্যালকুলেটর একটি চমৎকার ও কার্যকরী টুল। এটি নিয়মিত ব্যবহার করে আপনি নিজের স্বাস্থ্যের উন্নতি খুব সহজেই পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন।

যেগুলোর উত্তর আমরা সবচেয়ে বেশি দিই।

আরএফএম কি বিএমআই-এর চেয়ে বেশি নির্ভুল?

হ্যাঁ, অনেক ক্ষেত্রেই আরএফএম বেশি নির্ভুল ফলাফল দেয়। সাধারণ বিএমআই ক্যালকুলেটর শুধুমাত্র উচ্চতা ও ওজনের ওপর নির্ভর করে, যা পেশি এবং চর্বির পার্থক্য বুঝতে পারে না। অন্যদিকে, আরএফএম বডি ফ্যাট ক্যালকুলেটর পেটের মাপ এবং উচ্চতার অনুপাত ব্যবহার করে শরীরের অতিরিক্ত চর্বির পরিমাণ আরও নিখুঁতভাবে নির্ণয় করতে পারে।

আরএফএম হিসাব করার জন্য কোমরের মাপ কীভাবে নিতে হবে?

সঠিক মাপ পেতে ফিতাটি নাভির ঠিক ওপর দিয়ে কোমরের চারপাশে পেঁচিয়ে নিন। মাপ নেওয়ার সময় পেট স্বাভাবিক রাখুন এবং শ্বাস ছাড়ার পর ফিতাটি খুব বেশি টাইট না করে রিডিং নিন। নিখুঁত ফলাফল পেতে একটি সাধারণ মেজারিং টেপ ব্যবহার করাই যথেষ্ট।

শরীরের ওজন না জেনেও কি মেদ বা চর্বির পরিমাণ মাপা সম্ভব?

অবশ্যই সম্ভব। আরএফএম বডি ফ্যাট ক্যালকুলেটর ব্যবহার করে শুধুমাত্র আপনার উচ্চতা এবং কোমরের মাপ দিয়ে শরীরের চর্বির শতকরা হার বের করা যায়। এখানে ওজন মাপার যন্ত্র বা স্কেলের কোনো প্রয়োজন হয় না।

নারী ও পুরুষদের ক্ষেত্রে কি এই ক্যালকুলেটরের ফলাফল একই রকম হয়?

না, নারী ও পুরুষদের শারীরিক গঠন ভিন্ন হওয়ায় ক্যালকুলেটরটি আলাদা সূত্র ব্যবহার করে। পুরুষদের ক্ষেত্রে ৬৪ এবং নারীদের ক্ষেত্রে ৭৬ থেকে উচ্চতা ও কোমরের অনুপাতের একটি নির্দিষ্ট মান বিয়োগ করে চর্বির পরিমাণ নির্ণয় করা হয়।

ক্রীড়াবিদ বা বয়স্ক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে কি আরএফএম সঠিক কাজ করে?

সাধারণ প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য এটি বেশ কার্যকর হলেও, পেশিবহুল ক্রীড়াবিদদের ক্ষেত্রে এটি কখনো কখনো চর্বির পরিমাণ কিছুটা বেশি দেখাতে পারে। বয়স্কদের ক্ষেত্রেও পেশির ক্ষয়ের কারণে ফলাফলে সামান্য তারতম্য হতে পারে। পেশিবহুল শরীরের জন্য স্কিনফোল্ড পদ্ধতি ব্যবহার করা বেশি যুক্তিসঙ্গত হতে পারে।

আমার আরএফএম শতকরা হার দিয়ে কী বোঝায়?

এই হারটি আপনার শরীরের মোট ওজনের কতটুকু অংশ চর্বি তা নির্দেশ করে। যদি আপনার ফলাফল ২৫% হয়, এর মানে আপনার শরীরের চার ভাগের এক ভাগ ফ্যাট বা চর্বি। এই ফলাফলটি আমেরিকান কাউন্সিল অন এক্সারসাইজ (ACE) এর মানদণ্ড অনুযায়ী আপনি ফিটনেস ক্যাটাগরিতে আছেন কি না তা বুঝতে সাহায্য করে।

ইউএস নেভি পদ্ধতির সাথে আরএফএম-এর মূল পার্থক্য কোথায়?

ইউএস নেভি পদ্ধতি ব্যবহার করার সময় কোমর ও উচ্চতার পাশাপাশি পুরুষদের ক্ষেত্রে ঘাড় এবং নারীদের ক্ষেত্রে হিপ বা নিতম্বের মাপ নিতে হয়। কিন্তু আরএফএম বডি ফ্যাট ক্যালকুলেটর পদ্ধতিটি আরও সহজ, যেখানে কেবল উচ্চতা ও কোমরের মাপ দিলেই কাজ হয়ে যায়।