আরএফএম বডি ফ্যাট ক্যালকুলেটর কীভাবে কাজ করে?
এই ক্যালকুলেটরের মূল ভিত্তি হলো উচ্চতা এবং কোমরের মাপের অনুপাত। চিকিৎসাবিজ্ঞানে দেখা গেছে যে পেটের চারপাশে জমে থাকা চর্বি বা ভিসারাল ফ্যাট হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসের মতো মারাত্মক রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। এই চর্বি স্বাস্থ্যের জন্য কতটা ঝুঁকিপূর্ণ তা উচ্চতা ও কোমরের অনুপাত থেকে সহজেই বোঝা যায়। আরএফএম বডি ফ্যাট ক্যালকুলেটর নারী এবং পুরুষ উভয়ের শারীরিক গঠনের ভিন্নতার কথা মাথায় রেখে আলাদা সূত্র ব্যবহার করে। পুরুষদের জন্য সূত্রটি হলো:
%BF=64−20⋅waistheight
মহিলাদের জন্য সূত্রটি হলো:
%BF=76−20⋅waistheight
এখানে উচ্চতা এবং কোমরের মাপ সবসময় একই এককে নিতে হয়। আপনি ইঞ্চি বা সেন্টিমিটার যেটিই ব্যবহার করুন না কেন ফলাফল একই আসবে। আপনি চাইলে ঐচ্ছিক তথ্য হিসেবে শরীরের বর্তমান ওজন প্রদান করতে পারেন। ওজন দেওয়া থাকলে ক্যালকুলেটরটি মোট চর্বির ভর এবং চর্বিহীন পেশির ভরও আলাদাভাবে হিসাব করে দিতে পারে। এর ফলে শরীরের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে আরও বিস্তারিত ধারণা পাওয়া সম্ভব হয়।
বডি মাস ইনডেক্স (BMI) বনাম রিলেটিভ ফ্যাট মাস (RFM)
দীর্ঘদিন ধরে মানুষের স্বাস্থ্য মূল্যায়নে এবং স্থূলতা নির্ণয়ে বিএমআই ক্যালকুলেটর ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বিএমআই মূলত একজন ব্যক্তির উচ্চতা এবং ওজনের ওপর ভিত্তি করে কাজ করে। কিন্তু এর একটি বড় সীমাবদ্ধতা হলো এটি শরীরের পেশি এবং চর্বির মধ্যে কোনো পার্থক্য করতে পারে না। উদাহরণস্বরূপ একজন নিয়মিত ব্যায়াম করা পেশিবহুল মানুষের বিএমআই অনেক বেশি হতে পারে যা গাণিতিকভাবে তাকে স্থূল হিসেবে চিহ্নিত করবে। এই বিশাল সমস্যার সমাধানে রিলেটিভ ফ্যাট মাস পদ্ধতি অনেক বেশি কার্যকর ভূমিকা পালন করে। এটি ওজনের ওপর একেবারেই নির্ভর না করে শুধুমাত্র কোমরের মাপ ব্যবহার করে যা পেটের মেদ সম্পর্কে একদম সঠিক ধারণা দেয়। প্রথাগত ও পুরনো পদ্ধতির পরিবর্তে আরএফএম বডি ফ্যাট ক্যালকুলেটর ব্যবহার করলে শরীরের প্রকৃত গঠন সম্পর্কে আরও নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়। আপনি চাইলে তুলনামূলক বিশ্লেষণের জন্য বিএমআই বডি ফ্যাট পদ্ধতি ব্যবহার করেও দেখতে পারেন তবে আরএফএম সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য অনেক বেশি উপযোগী ও বাস্তবসম্মত।