বডি ফ্যাট পার্সেন্টেজ বা শরীরের চর্বির শতকরা হার কী নির্দেশ করে
সাধারণ ওজন মাপার যন্ত্র আমাদের শরীরের মোট ওজন দেখায়। এই মোট ওজনের মধ্যে হাড়, পেশি, জল এবং চর্বি সবই অন্তর্ভুক্ত থাকে। শুধু ওজন দেখে বোঝা সম্ভব নয় যে শরীরে চর্বির পরিমাণ কতটুকু বা পেশির পরিমাণ কতটুকু। একজন ব্যক্তির ওজন ৭০ কেজি হতে পারে, কিন্তু তার শরীরের গঠন অনুযায়ী তিনি ফিট নাকি স্থূল, তা নির্ভর করে চর্বির শতকরা হারের ওপর। বডি ফ্যাট ক্যালকুলেটর ব্যবহার করে খুব সহজেই ফ্যাট মাস এবং লিন বডি মাস আলাদা করে হিসাব করা যায়। লিন বডি মাস বলতে শরীরের চর্বিহীন অংশকে বোঝায়। যখন আমরা ওজন কমানোর চেষ্টা করি, তখন আমাদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত চর্বি কমানো, পেশি নয়। শরীরের চর্বির সঠিক হিসাব জানা থাকলে খাদ্যাভ্যাস এবং ব্যায়ামের পরিকল্পনা করা অনেক সহজ হয়। এটি আমাদের শারীরিক সুস্থতার একটি অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য সূচক হিসেবে কাজ করে। নিয়মিত চর্বির মাত্রা পরিমাপ করলে ফিটনেস যাত্রার সঠিক অগ্রগতি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়।
চর্বি মাপার চারটি জনপ্রিয় পদ্ধতির তুলনা
শরীরের চর্বি মাপার জন্য বডি ফ্যাট ক্যালকুলেটর প্রধানত চারটি পদ্ধতি ব্যবহার করে। প্রতিটি পদ্ধতির নিজস্ব সুবিধা রয়েছে। প্রথমটি হলো ইউএস নেভি পদ্ধতি, যা সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়। এই পদ্ধতিতে শুধুমাত্র একটি মাপার ফিতা বা টেপ দিয়ে ঘাড়, কোমর এবং নিতম্বের মাপ নিয়ে চর্বি হিসাব করা হয়। পুরুষদের ক্ষেত্রে ইউএস নেভি পদ্ধতির মূল সূত্রটি নিচে দেওয়া হলো:
%BF=1.0324−0.19077log10(waist−neck)+0.15456log10(height)495−450
দ্বিতীয় পদ্ধতিটি হলো রিলেটিভ ফ্যাট মাস বা আরএফএম পদ্ধতি। এটি শুধুমাত্র উচ্চতা এবং কোমরের মাপ ব্যবহার করে কাজ করে এবং এটি বেশ সহজ। তৃতীয়টি হলো বিএমআই পদ্ধতি, যা বয়স, লিঙ্গ, উচ্চতা এবং ওজনের ওপর ভিত্তি করে চর্বির একটি আনুমানিক হিসাব দেয়। চতুর্থ পদ্ধতিটি হলো জ্যাকসন-পোলক স্কিনফোল্ড পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে ক্যালিপার নামের একটি যন্ত্র ব্যবহার করে শরীরের তিনটি নির্দিষ্ট অংশের চামড়ার ভাঁজ মেপে চর্বি নির্ণয় করা হয়। আপনার কাছে কোন সরঞ্জামটি আছে, তার ওপর ভিত্তি করে আপনি সুবিধাজনক পদ্ধতিটি বেছে নিতে পারেন।