ভাষা বেছে নিন

সাদাকালো পুরনো ছবিকে রঙিন করার AI টুল

আপনার পুরনো ও অস্পষ্ট সাদাকালো ছবিগুলোকে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রাণবন্ত ও রঙিন করে তুলুন। কোনো ডেটা আপলোড ছাড়াই সরাসরি ব্রাউজারে হাই-রেজোলিউশন ছবি পান।

Mehmet Demiray (মেহমেত দেমিরায়) প্রকাশিত আপডেট হয়েছে
শেয়ার করুন
আপনার ব্রাউজারেই প্রসেস হয়, কিছুই আপলোড হয় না। AI মডেলটি (প্রায় 122 MB) প্রথম ব্যবহারের সময় একবার ডাউনলোড হয়।
ছবি বা ফোটোর জন্য JPEG সবচেয়ে ভালো, আর PNG সম্পূর্ণ কোয়ালিটি বজায় রাখে

AI এর শেখা অভিজ্ঞতা থেকে সামঞ্জস্যপূর্ণ রঙ তৈরি করে, তাই এগুলো আসল রঙের থেকে আলাদা হতে পারে। ফিকে হয়ে যাওয়া রঙিন ছবিও সতেজ করা যায়।

এআই কালারাইজেশন কীভাবে কাজ করে

AI ফটো কালারাইজার মূলত একটি শক্তিশালী নিউরাল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে কাজ করে যা লক্ষ লক্ষ রঙিন ছবির ওপর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। এই প্রযুক্তি ছবির প্রতিটি পিক্সেলের চারপাশের প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করে এবং সেখানে কোন রং থাকা উচিত তা অনুমান করার চেষ্টা করে। উদাহরণস্বরূপ, এআই জানে যে গাছের পাতার রং সাধারণত সবুজ বা আকাশের রং নীল হয়। তবে এটি কোনো জাদুকরী উপায়ে ছবির আদি রং ফিরিয়ে আনে না বরং এটি একটি যৌক্তিক রঙের ধারণা তৈরি করে। ঐতিহাসিক ছবির ক্ষেত্রে এআই ত্বকের টোন বা প্রকৃতির রং খুব নিখুঁতভাবে দিতে পারলেও তৎকালীন কোনো গাড়ির নির্দিষ্ট পেইন্ট বা কাপড়ের সঠিক শেড সব সময় ১০০ ভাগ নির্ভুলভাবে বলতে পারে না। এটি একটি সম্ভাব্য এবং দৃষ্টিনন্দন রং প্রদান করে যা ছবিটিকে জীবন্ত করে তোলে।

পুরনো স্মৃতিকে নতুন করে সাজানো

আমাদের পারিবারিক অ্যালবামে থাকা পুরনো সাদাকালো ছবিগুলো কেবল কিছু কাগজ নয় বরং এগুলো আমাদের আবেগ ও ইতিহাসের অংশ। এই স্মৃতিগুলোকে নতুন করে প্রাণ দিতে AI ফটো কালারাইজার অসাধারণ ভূমিকা রাখে। তবে সেরা ফলাফল পেতে ছবি স্ক্যান করার সময় কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। ছবির কাচ পরিষ্কার রাখা, সোজাসুজি ছবি তোলা এবং পর্যাপ্ত আলো ব্যবহার করা জরুরি। ছবির মান যদি খুব খারাপ হয় বা ফেটে গিয়ে থাকে তবে এআই ফেস রিস্টোরার ব্যবহার করে মুখমণ্ডল স্পষ্ট করে নেওয়া যেতে পারে। ডিজিটাল করার সময় অন্তত ৬০০ ডিপিআই (DPI) রেজোলিউশনে স্ক্যান করলে রঙের গভীরতা ও ডিটেইল ভালো বজায় থাকে।

রেজোলিউশন ঠিক রেখে ছবি রঙিন করার কৌশল

অনেক অনলাইন টুল ছবি রঙিন করার সময় ছবির রেজোলিউশন কমিয়ে দেয় বা ছবির ডিটেইল নষ্ট করে ফেলে। কিন্তু AI ফটো কালারাইজার একটি বিশেষ পদ্ধতিতে কাজ করে যা আপনার ছবির মূল শার্পনেস বা স্পষ্টতা বজায় রাখে। এই টুলটি প্রথমে ছবির একটি ছোট ভার্সনে রঙের ম্যাপ বা ক্রোমা ম্যাপ তৈরি করে। এরপর সেই রঙের স্তরটিকে মূল উচ্চ রেজোলিউশনের ছবির সাথে যুক্ত করা হয়। ফলে ছবির মূল ডিটেইল বা সূক্ষ্ম কাজগুলো ঠিক থাকে এবং কেবল রঙটি যুক্ত হয়। এই প্রক্রিয়ায় ছবির মান কমে যাওয়ার ভয় থাকে না এবং আপনি সর্বোচ্চ ৪,০৯৬ পিক্সেল পর্যন্ত ছবি এখানে প্রসেস করতে পারেন। পরবর্তী ধাপে আরও বড় আকারের ছবির জন্য এআই ইমেজ আপস্কেলার ব্যবহার করা যেতে পারে।

কোন ধরনের ছবি সবচেয়ে ভালো রঙিন হয়

এআই সাধারণত প্রাকৃতিক দৃশ্য, পোর্ট্রেট এবং পরিষ্কার দিনের আলোয় তোলা ছবিতে সবচেয়ে ভালো কাজ করে। যখন ছবিতে মানুষ, ঘাস, পাহাড় বা আকাশ থাকে তখন AI ফটো কালারাইজার খুব সহজেই সেই বস্তুগুলো চিনতে পারে এবং সঠিক রং দিতে সক্ষম হয়। তবে খুব অন্ধকার, ঝাপসা বা অতিরিক্ত নষ্ট হয়ে যাওয়া ছবিতে এআই অনেক সময় সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। এমন ক্ষেত্রে কিছু জায়গা কিছুটা ধূসর বা ফ্যাকাশে থেকে যেতে পারে। এছাড়া ফিকে হয়ে যাওয়া পুরনো রঙিন ছবির ক্ষেত্রেও এই টুলটি দারুণ কাজ করে। যদি ছবিতে নয়েজ বা দানাদার ভাব বেশি থাকে তবে শুরুতে এআই ইমেজ ডিনয়েজার ব্যবহার করে ছবিটিকে মসৃণ করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

ছবি সংস্কারের পূর্ণাঙ্গ ধাপ

একটি পুরনো ছেঁড়া বা ঝাপসা সাদাকালো ছবিকে আধুনিক মানের ছবিতে রূপান্তর করার জন্য একটি নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করা ভালো। এই প্রক্রিয়ার শুরুতে ছবি থেকে অপ্রয়োজনীয় ডাস্ট বা নয়েজ দূর করার জন্য এআই ইমেজ ডিনয়েজার ব্যবহার করুন। ছবি পরিষ্কার হয়ে যাওয়ার পর AI ফটো কালারাইজার ব্যবহার করে এতে প্রাণবন্ত রং যোগ করুন। যদি ছবিতে থাকা মানুষের মুখ অস্পষ্ট থাকে তবে পরবর্তী ধাপে এআই ফেস রিস্টোরার এর সাহায্য নিন। সবশেষে ছবির আকার বড় করতে এবং প্রিন্ট করার উপযোগী করতে এআই ইমেজ আপস্কেলার ব্যবহার করে কাজটি সম্পন্ন করুন। এই ধারাবাহিক পদ্ধতি অনুসরণ করলে পুরনো ঐতিহাসিক ছবিও নতুনের মতো হয়ে উঠবে।

তথ্যের নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা

পারিবারিক ছবি বা ব্যক্তিগত স্মৃতি অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। অধিকাংশ অনলাইন কালারাইজার আপনার ছবি তাদের সার্ভারে আপলোড করে যা অনেক সময় ঝুঁকির কারণ হতে পারে। তবে Callculation প্ল্যাটফর্মের AI ফটো কালারাইজার সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে কাজ করে। এখানে আপনার কোনো ছবি সার্ভারে আপলোড হয় না বরং পুরো প্রসেসিংটি আপনার ডিভাইসের ব্রাউজারেই সম্পন্ন হয়। এর জন্য WebGPU এবং WASM প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। প্রথমবার ব্যবহারের সময় প্রায় ১২২ এমবি সাইজের একটি এআই মডেল আপনার ব্রাউজারে ডাউনলোড হবে যা পরবর্তীতে ক্যাশে জমা থাকবে। ফলে ইন্টারনেট সংযোগ ছাড়াই দ্রুত কাজ করা সম্ভব এবং আপনার ব্যক্তিগত ছবির শতভাগ গোপনীয়তা বজায় থাকে।

যেগুলোর উত্তর আমরা সবচেয়ে বেশি দিই।

আমি কীভাবে একটি সাদাকালো ছবি রঙিন করতে পারি

AI ফটো কালারাইজার ব্যবহার করা খুবই সহজ। প্রথমে আপনার ডিভাইস থেকে কাঙ্ক্ষিত সাদাকালো ছবিটি ড্র্যাগ করে টুলের বক্সে আনুন অথবা ফাইল আপলোড বাটনে ক্লিক করে ছবিটি নির্বাচন করুন। এআই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ছবিটির ওপর একটি রঙিন স্তর তৈরি করবে। প্রসেসিং শেষ হলে আপনি অরিজিনাল এবং রঙিন ছবির পার্থক্য দেখতে পাবেন এবং ডাউনলোড বাটনে ক্লিক করে হাই-রেজোলিউশন ছবিটি আপনার ডিভাইসে সেভ করতে পারবেন।

এই সেবাটি ব্যবহার করার জন্য কি আমাকে টাকা দিতে হবে বা অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে

না, এই টুলটি ব্যবহার করার জন্য কোনো টাকা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। এটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ব্যবহার করা যায়। এছাড়া ছবি রঙিন করার জন্য কোনো অ্যাকাউন্ট খোলা বা সাইন-আপ করার ঝামেলাও নেই। অনেক টুল ছবি রঙিন করার পর ওয়াটারমার্ক দিয়ে দেয় কিন্তু আমাদের এখানে আপনি কোনো ওয়াটারমার্ক ছাড়াই ফুল রেজোলিউশন ছবি পাবেন।

আমার ব্যক্তিগত বা পারিবারিক ছবি কি আপনাদের সার্ভারে আপলোড হয়

না, আপনার ছবির নিরাপত্তা আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। AI ফটো কালারাইজার আপনার কোনো ছবি সার্ভারে আপলোড করে না। এই টুলটি আপনার ব্রাউজারের মধ্যেই কাজ সম্পন্ন করে। এর ফলে আপনার ব্যক্তিগত ছবিগুলো আপনার ডিভাইসেই থাকে এবং গোপনীয়তা বজায় থাকে।

এআই কি একদম নিখুঁত বা আসল রং ফিরিয়ে দিতে পারে

এআই প্রযুক্তিতে যে রংগুলো যোগ করা হয় সেগুলো আসলে ঐতিহাসিক রঙের পুনরুদ্ধার নয় বরং একটি যৌক্তিক অনুমান। এআই কয়েক লক্ষ রঙিন ছবির ওপর ভিত্তি করে কাজ করে এবং ছবির বিষয়বস্তু চিনে সেখানে মানানসই রং বসিয়ে দেয়। যেমন এটি গাছের পাতাকে সবুজ বা নীল আকাশকে চিহ্নিত করতে পারে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি চমৎকার ও বাস্তবসম্মত ফলাফল দিলেও নির্দিষ্ট কোনো পোশাক বা গাড়ির আসল রং সবসময় ১০০ ভাগ নির্ভুল নাও হতে পারে।

এটি কি ফিকে হয়ে যাওয়া পুরনো রঙিন ছবির ওপর কাজ করে

হ্যাঁ, আপনার পুরনো রঙিন ছবি যদি সময়ের সাথে সাথে ফ্যাকাশে বা হলদেটে হয়ে গিয়ে থাকে তবে এই টুলটি তার ওপর কাজ করবে। এআই ছবির আদি ডিটেইল ঠিক রেখে নতুন করে প্রাণবন্ত রঙের শেড যোগ করে। ছবির মান আরও নিখুঁত করতে আপনি চাইলে রঙিন করার আগে এআই ইমেজ ডিনয়েজার ব্যবহার করে ছবির নয়েজ কমিয়ে নিতে পারেন।

ছবির কিছু অংশ কেন ফ্যাকাশে বা ধূসর থেকে যায়

কখনও কখনও ছবিতে থাকা কোনো অস্পষ্ট বস্তু বা খুব অন্ধকার অংশের রঙের বিষয়ে এআই মডেলটি নিশ্চিত হতে পারে না। যখন এআই কোনো নির্দিষ্ট বস্তুর সঠিক রং নির্ধারণ করতে ব্যর্থ হয় তখন সেটি ওই অংশকে ধূসর বা স্বাভাবিক রঙের কাছাকাছি রাখার চেষ্টা করে। ঝাপসা বা অতিরিক্ত ঝুরঝুরে হয়ে যাওয়া ছবিতে এমনটি বেশি হতে পারে।

প্রথমবার ছবি প্রসেসিং হতে অনেক বেশি সময় লাগছে কেন

প্রথমবার ব্যবহারের সময় এআই মডেলটি কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় ১২২ এমবি সাইজের একটি ফাইল আপনার ব্রাউজারে ডাউনলোড করে নেয়। একবার এটি ডাউনলোড হয়ে ক্যাশে জমা থাকলে পরবর্তীতে আপনি অনেক দ্রুত কাজ করতে পারবেন এবং ইন্টারনেট সংযোগ ছাড়াও টুলটি ব্যবহার করা সম্ভব হবে।

আমার ছবি কেন আপলোড হচ্ছে না

এই টুলটিতে নিরাপত্তার খাতিরে এবং ভালো পারফরম্যান্স নিশ্চিত করতে ছবির আকারের একটি সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। আপনি প্রতিটি পাশে সর্বোচ্চ ৪,০৯৬ পিক্সেল পর্যন্ত ছবি আপলোড করতে পারবেন। আপনার ছবির আকার এর চেয়ে বড় হলে সেটি রিজেক্ট হতে পারে। সেক্ষেত্রে ছবির রেজোলিউশন কিছুটা কমিয়ে পুনরায় চেষ্টা করুন।

পেইড সার্ভিসের তুলনায় এই টুলের সুবিধা কী

অধিকাংশ পেইড কালারাইজেশন সার্ভিস মাসিক সাবস্ক্রিপশন বা প্রতিটি ছবির জন্য টাকা দাবি করে এবং ফ্রিতে ছবি দিলে সেখানে বড় করে ওয়াটারমার্ক থাকে। AI ফটো কালারাইজার সম্পূর্ণ ফ্রি হওয়া সত্ত্বেও আপনাকে হাই-রেজোলিউশন ও ওয়াটারমার্কহীন ছবি প্রদান করে। এছাড়া প্রসেসিং এর পর ছবির আকার বড় করতে আপনি এখানে থাকা এআই ইমেজ আপস্কেলার ব্যবহার করতে পারেন যা আলাদা কোনো খরচে ছাড়াই আপনার কাজ সহজ করে দেয়।

তথ্যসূত্র

  1. DeOldify — colorizing and restoring old images · GitHub · Jason Antic
  2. deoldify-onnx — ONNX conversion of the DeOldify artistic model · GitHub
  3. ONNX Runtime Web documentation · ONNX Runtime