ভাষা বেছে নিন

ছবির EXIF ডেটা ও লোকেশন মুছে ফেলার টুল

ছবির গুণমান অক্ষুণ্ণ রেখে জিপিএস লোকেশন, ক্যামেরার বিবরণ এবং মেটাডেটা সরাসরি ব্রাউজারে মুছে ফেলুন।

Mehmet Demiray (মেহমেত দেমিরায়) প্রকাশিত আপডেট হয়েছে
শেয়ার করুন
আপনার ডিভাইসেই পড়া ও পরিষ্কার করা হয়, কিছুই আপলোড করা হয় না

লোকেশনসহ সমস্ত EXIF, XMP এবং IPTC ফিল্ড মুছে ফেলা হয়। কোনো পিক্সেল পরিবর্তন না করেই JPEG ফাইল পরিষ্কার করা হয়, ফলে গুণমান অপরিবর্তিত থাকে।

ছবির মেটাডাটা থেকে ঠিক কোন তথ্যগুলো মুছে ফেলা হয়

স্মার্টফোন বা ডিজিটাল ক্যামেরায় তোলা প্রতিটি ছবির পেছনে অনেক অদৃশ্য কারিগরি তথ্য জমা থাকে। এই তথ্যগুলোকে সামগ্রিকভাবে মেটাডাটা বলা হয়। EXIF রিমুভার ব্যবহারের মাধ্যমে ছবির মূল দৃশ্যমান অংশ ঠিক রেখে পেছনের গোপনীয় ও অপ্রয়োজনীয় তথ্যগুলো সম্পূর্ণ মুছে ফেলা হয়।

মুছে ফেলা তথ্যের প্রধান তালিকা: - ভৌগোলিক অবস্থান: জিপিএস স্থানাঙ্ক (অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশ), উচ্চতা এবং লোকেশন ট্যাগ। - ডিভাইসের পরিচয়: ক্যামেরা বা ফোনের প্রস্তুতকারক ব্র্যান্ড, নির্দিষ্ট মডেল এবং ব্যবহৃত লেন্সের বিবরণ। - সময় ও তারিখ: ছবি তোলার নিখুঁত সময়, তারিখ এবং টাইম জোন। - ক্যামেরার সেটিংস: শাটার স্পিড, অ্যাপারচার, আইএসও লেভেল, ফোকাল লেন্থ, ফ্ল্যাশ ব্যবহারের বিবরণ এবং হোয়াইট ব্যালেন্স। - সম্পাদনার ইতিহাস: ছবিটি আগে কোনো সফটওয়্যার বা অ্যাপ দিয়ে সম্পাদনা করা হয়েছিল কি না তার বিবরণ। - আইপিটিসি এবং এক্সএমপি তথ্য: ছবির শিরোনাম, কপিরাইট বিবরণ, নির্মাতার নাম এবং বর্ণনামূলক ট্যাগ।

ছবির দৃশ্যমান রঙের সঠিক মান ধরে রাখার জন্য কালার প্রোফাইল বা আইসিসি ডেটা মুছে ফেলা হয় না। কালার প্রোফাইল সরিয়ে দিলে বিভিন্ন স্ক্রিনে ছবির রঙের শেড পরিবর্তিত হয়ে যেতে পারে, তাই এটি অক্ষত রাখা হয়। মেটাডাটা মোছার আগে ফাইলে কী কী তথ্য আছে তা বিস্তারিত দেখতে মেটাডাটা পরীক্ষক টুল ব্যবহার করা যায়।

ইন্টারনেটে ছবি শেয়ারের আগে লোকেশন ও মেটাডাটা মোছার প্রয়োজনীয়তা

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ছবি আপলোড করার সময় আমরা প্রায়ই নিজস্ব গোপনীয়তার কথা ভুলে যাই। বাসায় বসে তোলা একটি সাধারণ পণ্যের ছবি বা পরিবারের সদস্যদের ছবির ফাইলে যুক্ত থাকা জিপিএস কোঅর্ডিনেট যে কারও কাছে আপনার বাসার সঠিক ঠিকানা প্রকাশ করে দিতে পারে।

অনলাইন মার্কেটপ্লেসে বেচাকেনার জন্য জিনিসপত্রের ছবি আপলোড করার ক্ষেত্রে কিংবা কোনো মেরামত কাজের দরপত্রের জন্য অপরিচিত ব্যক্তিকে ছবি পাঠানোর সময় এই ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে। ক্যামেরায় তোলা ছবির ফাইলে থাকা টাইমস্ট্যাম্প দেখেও বোঝা যায় আপনি দিনের কোন সময়ে সাধারণত কোথায় থাকেন।

অনেকে মনে করেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে ছবির মেটাডাটা সরিয়ে দেয়। কিন্তু মেসেজিং অ্যাপ, ইমেইল সংযুক্তি, ক্লাউড ড্রাইভ লিংক বা ক্লাসিফায়েড সাইটের মাধ্যমে ছবি পাঠালে মূল ফাইলের প্রতিটি বাইট অবিকৃত অবস্থায় অপর প্রান্তের ব্যক্তির কাছে পৌঁছে যায়। তাই নিজের ডিভাইসেই ছবির মেটাডাটা পরিষ্কার করে নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি। এই টুলে ফাইল প্রসেসিং সম্পূর্ণ ব্রাউজারের ভেতরে ঘটে, ফলে কোনো তথ্য ইন্টারনেটে আপলোড হয় না।

জেপেগ ফাইলের মান নষ্ট না করে মেটাডাটা অপসারণের কৌশল

সাধারণত কোনো ছবি এডিটিং সফটওয়্যারে খুলে নতুন করে সংরক্ষণ করলে ছবির পিক্সেলগুলো পুনরায় সংকুচিত হয়। এই প্রক্রিয়াকে রি-এনকোডিং বলা হয়, যার ফলে ছবির সূক্ষ্ম মান কিছুটা হ্রাস পায়। EXIF রিমুভার জেপেগ ফাইলের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ লসলেস বা মান অপরিবর্তিত রাখার পদ্ধতি ব্যবহার করে।

একটি জেপেগ ফাইল মূলত বিভিন্ন মার্কার বা সেগমেন্টের সমন্বয়ে গঠিত:

ফাইলের অংশ ভূমিকা মেটাডাটা অপসারণের সময় পদক্ষেপ
হেড মার্কার ফাইলের সূচনা নির্দেশ করে অপরিবর্তিত থাকে
APP1 সেগমেন্ট EXIF এবং জিপিএস তথ্য ধারণ করে বাইট পর্যায় থেকে বাদ দেওয়া হয়
APP13 সেগমেন্ট ফটোশপ এবং IPTC মেটাডাটা ধারণ করে সম্পূর্ণ মুছে ফেলা হয়
স্টার্ট অফ স্ক্যান ছবির মূল পিক্সেল ডেটার সূচনা স্পর্শ না করে কপি করা হয়
কালার প্রোফাইল ডিসপ্লেতে সঠিক রঙ ফুটিয়ে তোলে সুরক্ষার জন্য রেখে দেওয়া হয়

যেহেতু মূল পিক্সেল ডেটায় কোনো নতুন সংকোচন প্রয়োগ করা হয় না, তাই ছবির রেজোলিউশন ও দৃশ্যমান মানে কোনো পরিবর্তন আসে না। প্রয়োজনে ফাইল সাইজ আরও কমাতে চাইলে পরবর্তীতে আলাদাভাবে ইমেজ কম্প্রেসর ব্যবহার করা যেতে পারে।

ভিন্ন ফরম্যাটের ছবির ক্ষেত্রে মেটাডাটা প্রক্রিয়াকরণ পদ্ধতি

সব ধরনের ইমেজ ফরম্যাটের অভ্যন্তরীণ গঠন এক রকম হয় না। ফলে ফাইল ফরম্যাটের ওপর ভিত্তি করে মেটাডাটা সরানোর প্রক্রিয়ায় সামান্য পার্থক্য থাকে।

১. জেপেগ ফরম্যাট: মেটাডাটা সেগমেন্টগুলো বাইট আকারে মুছে ফেলে মূল ইমেজ স্ট্রিম সরাসরি নতুন ফাইলে অনুলিপি করা হয়। এতে পিক্সেল ডাটা পুনর্গঠন করতে হয় না।

২. পিএনজি এবং ওয়েবপি ফরম্যাট: এই ফরম্যাটগুলোতে মেটাডাটা চাংক হিসেবে সংরক্ষিত থাকে। মেটাডাটা মুক্ত করার জন্য ব্রাউজারের ক্যানভাসে ছবিটি নতুন করে এঁকে পিএনজি ফরম্যাটে আউটপুট দেওয়া হয়।

৩. এইচইআইসি ফরম্যাট: আধুনিক স্মার্টফোনের এইচইআইসি ফাইল সরাসরি অনলাইনে শেয়ার করার আগে জেপেগ ফরম্যাটে রূপান্তর করে মেটাডাটা পরিষ্কার করা সুবিধাজনক। এর জন্য এইচইআইসি রূপান্তরক কারক ব্যবহার করা যায়।

মেটাডাটা অপসারণের পর জেপেগ ফাইলের আকার কিছুটা কমতে পারে। কারণ মেটাডাটা সেগমেন্ট, বিশেষ করে এমবেডেড থাম্বনেইল প্রিভিউ প্রায় ৫০ kB থেকে ২০০ kB পর্যন্ত জায়গা দখল করে থাকে। ছবির মাত্রা পরিবর্তন করার প্রয়োজন হলে আলাদাভাবে ইমেজ রিসাইজার কাজে লাগানো যায়।

ছবি প্রকাশের আগে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও আর্কাইভ সংরক্ষণের নিয়ম

ছবি থেকে মেটাডাটা মুছে ফেলা ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য জরুরি হলেও নিজের ব্যক্তিগত সংগ্রহের জন্য এই তথ্যগুলো অত্যন্ত মূল্যবান। ছবি তোলার তারিখ, সময় এবং ক্যামেরা সেটিংস ভবিষ্যতের জন্য ব্যক্তিগত অ্যালবাম সাজাতে সহায়তা করে।

একটি সুশৃঙ্খল কাজের পদ্ধতি নিচে দেওয়া হলো:

১. মূল ছবির একটি ব্যাকআপ কপি ডিভাইসে বা ক্লাউড স্টোরেজে নিজস্ব ব্যবহারের জন্য অক্ষত রাখুন। ২. সামাজিক মাধ্যম, ক্লাসিফায়েড সাইট বা অপরিচিত কারও সাথে শেয়ার করার জন্য ছবির একটি প্রতিলিপি তৈরি করুন। ৩. প্রতিলিপি করা ফাইলটি EXIF রিমুভার এর মাধ্যমে প্রক্রিয়াজাত করে সমস্ত জিপিএস ও মেটাডাটা সম্পূর্ণ মুছে নিন। ৪. ফলাফল পৃষ্ঠায় কতটি মেটাডাটা ফিল্ড মুছে ফেলা হয়েছে এবং লোকেশন ডেটা বাদ পড়েছে কি না তা নিশ্চিত হয়ে ডাউনলোড করুন।

একবার মেটাডাটা মুছে ফেলা ফাইল থেকে সেই তথ্য আর পুনরুদ্ধার করা সম্ভব নয়। তাই মূল ফাইল সরাসরি প্রক্রিয়াজাত না করে সর্বদা শেয়ার করার উপযোগী প্রতিলিপি ফাইলে এই টুল ব্যবহার করা উচিত।

যেগুলোর উত্তর আমরা সবচেয়ে বেশি দিই।

ছবি থেকে লোকেশন বা জিপিএস তথ্য কীভাবে সরাব?

EXIF রিমুভার টুলে ছবিটি যুক্ত করলে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ছবির সাথে থাকা জিপিএস কোঅর্ডিনেট, ক্যাপচারের তারিখ ও ক্যামেরার তথ্য শনাক্ত করে মুছে দেয়। প্রক্রিয়া শেষে ডাউনলোড বোতামে চাপ দিলে কোনো ব্যক্তিগত তথ্য ছাড়া পরিচ্ছন্ন ছবিটি ডিভাইসে সংরক্ষিত হবে।

EXIF ডেটা মুছে ফেললে কি ছবির গুণমান কমে যায়?

JPEG ফাইলের ক্ষেত্রে গুণমানের কোনো ক্ষতি হয় না, কারণ পিক্সেল ডাটা পুনর্সংকোচন না করে কেবল মেটাডাটা অংশগুলো বাদ দেওয়া হয়। রঙের সঠিকতা ধরে রাখতে কালার প্রোফাইল অক্ষত রাখা হয়। তবে PNG বা WebP ফাইলের ক্ষেত্রে ছবিটি পুনরায় এনকোড করা হয়, যাতে দৃশ্যমান পরিবর্তন না ঘটিয়ে মেটাডাটা সম্পূর্ণ মুক্ত করা যায়।

মেটাডাটা সরানোর সময় ছবি কি কোনো সার্ভারে আপলোড হয়?

না, সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি আপনার ব্রাউজার বা ডিভাইসের মেমরিতে সম্পন্ন হয়। কোনো ছবি ইন্টারনেটের মাধ্যমে বাইরের সার্ভারে পাঠানো বা সংরক্ষণ করা হয় না। ফলে ব্যক্তিগত ছবি বা বাসায় তোলা পণ্যের ছবি অনলাইন মার্কেটপ্লেসে দেওয়ার আগে নিরাপদে পরিষ্কার করা সম্ভব।

ডেটা মুছে ফেলার আগে ছবিতে কী কী তথ্য আছে তা কীভাবে দেখা যাবে?

ছবি থেকে সরাসরি তথ্য বাদ দেওয়ার আগে কী কী সংবেদনশীল তথ্য এতে যুক্ত আছে তা পরীক্ষা করতে EXIF ভিউয়ার ব্যবহার করতে পারেন। সেখানে ক্যামেরার মডেল, সঠিক ভৌগোলিক অবস্থান ও এক্সপোজার সেটিংস দেখে নেওয়ার পর EXIF রিমুভার দিয়ে এক ক্লিকে অপ্রয়োজনীয় সব ট্যাগ মুছে ফেলতে পারেন।

মেটাডাটা সরানোর পর ফাইলের আকার কি কমে যায়?

হ্যাঁ, আধুনিক স্মার্টফোনে তোলা ছবিতে থাম্বনেইল প্রিভিউ, জিপিএস ও বিস্তারিত ক্যামেরা সেটিংসের কারণে মেটাডাটাই ৫০ kB থেকে কয়েকশ কিলোবাইট জায়গা দখল করতে পারে। এই বাড়তি ডাটা সেগমেন্টগুলো বাদ দিলে ছবির রেজল্যুশন ঠিক রেখেই ফাইলের আকার কিছুটা ছোট হয়ে যায়। ফাইলের আকার আরও কমাতে চাইলে ইমেজ কম্প্রেসার ব্যবহার করা যেতে পারে।

মেটাডাটা মুছে ফেলার পর সেই তথ্য কি আবার পুনরুদ্ধার করা সম্ভব?

নতুন তৈরি হওয়া ফাইলটি থেকে মুছে ফেলা মেটাডাটা আর পুনরুদ্ধার করা যায় না, কারণ সেই বাইটগুলো ফাইল থেকে স্থায়ীভাবে বর্জন করা হয়। তবে আপনার ডিভাইসে থাকা মূল ছবিটি অপরিবর্তিত থাকে, তাই ব্যক্তিগত অ্যালবামের জন্য মূল ফাইলটি সংরক্ষণ করে কেবল অনলাইনে প্রকাশের জন্য পরিচ্ছন্ন কপিটি ব্যবহার করাই নিরাপদ।

তথ্যসূত্র

  1. Exif · Wikipedia
  2. CIPA DC-008 Exchangeable image file format for digital still cameras (Exif) · CIPA · Camera & Imaging Products Association · 2023
  3. JPEG File Interchange Format · Wikipedia
  4. ICC profile · Wikipedia